1. [email protected] : Asim : Asim
  2. [email protected] : anis : anis
  3. [email protected] : Admin : Admin
  4. [email protected] : Polash : Polash
  5. [email protected] : Rajowan : Rajowan
  6. [email protected] : Riyad : Riyad
সংকট উত্তরণে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

সংকট উত্তরণে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা

  • পোস্ট হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে থমকে যাওয়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের থেকে ১২ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এ বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৯তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দ্বিতীয় বাজেট।

চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। মানুষের জীবন রক্ষা আর জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটের শিরোনাম করা হয়েছে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ: ভবিষ্যত পথ পরিক্রমা’। সঙ্গত কারণেই এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এ বাজেট অনুমোদনের জন্য দুপুরে জতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এক বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।


২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। আর আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এটা দ্বিতীয় বাজেট। যা আগের বছরের চেয়ে ৪৪ হাজার ৮১০কোটি টাকা বেশি। আর এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।

বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে জরুরি এবং অপ্রত্যাশিত খরচ দেখা দিয়েছে তা মেটাতে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় আগামী বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির ৬ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে এ ঘাটতি মেটানো হবে। এ হার গত বাজেটে ছিল জিডিপির ৫ শতাংশ।

আসছে বাজেটে সরকারের আয়
সরকারের মূল আয় হয় রাজস্ব আহরণের মধ্য দিয়ে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এটি আহরণ করে। এনবিআর বহির্ভূত কিছু কর ও কর ব্যতীত কিছু আয়ও হয়। আসছে বাজেটে সরকারের মোট রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী অর্থবছরে সরকার বৈদেশিক অনুদান পাবে ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে সরকারের আয় হবে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা।

এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হচ্ছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত করসমূহ থেকে রাজস্বে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতীত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে চলমান করোনাভাইরাসে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২০ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এতে সংশোধিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫৭ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর আহরণ করবে তিন লাখ ১৩ হাজার ৭০ কোটি টাকা এবং এনবিআর বহির্ভূত উৎস থেকে আসবে ৪৪ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।

আসছে বাজেটে সরকারের মোট ব্যয়
এবারের বাজেটে সরকার মোট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চলতি বাজেটে যা ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আবার সংশোধিত বাজেটে সেটি কমিয়ে করা হয় ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে আগামী বাজেটে সরকার পরিচালন ব্যয় বাবদ খরচ ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ রাখা হচ্ছে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। সম্পদ সংগ্রহ, ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ ও পূর্ত কাজ, শেয়ার ও ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ ইত্যাদি পরিচালন বাবদ মূলধন ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩৬ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। খাদ্য হিসাব বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৫৬৭ কোটি টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ঋণ ও অগ্রিম (নীট) বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৪ হাজার ২১০ কোটি টাকা।

এছাড়া উন্নয়ন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এডিপি বহির্ভূত বিশেষ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং নিজস্ব উৎসের রাজস্ব থেকে অর্থায়নকৃত উন্নয়নমূলক কর্মসূচি তথা স্কিম বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এছাড়া এডিপি বহির্ভূত কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮.২ শতাংশ
করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘ সময় ধরে চলা লকডাউনের কারণে রফতানি হ্রাস পাওয়া এবং প্রবাস আয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত না হওয়ায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধিার হার সংশোধন করে ৫ দশমিক ২ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কোভিড-১৯ পরবর্তী উত্তরণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেছে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি হার ৮ দশমিক ২ ধরা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ৫.৫ শতাংশ
আসছে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি
করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো কর দিতে হবে না। পরবর্তী ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ৫ শতাংশ, পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের উপর ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরুষ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা এবং নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমরা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি
সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে ৩৪ হাজার ৪২৭ কোটি টাকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবার এ খাতে সংশোধিত বাজেট ছিল ৩২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।

ওষুধ-কৃষি যন্ত্রপাতি-পোলট্রির দাম কমছে
২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পিপিই, মাস্ক, ফেস শিল্ডসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী আমদানি ও উৎপাদনে ভ্যাট ও শুল্ক অব্যাহতি। এতে এসব পণ্যের দাম কমবে।

আরও যেসব পণ্য ও সেবার দাম কমবে:
চার্জার কানেকটর পিন, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য শিল্পে ব্যবহৃত তিনটি উপকরণ, ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৪৩টি উপকরণের দাম, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, লিফট প্রস্তুতকারী শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা সকল উপকরণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপন ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, কমপ্রেসর প্রস্তুতকারী শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা সব উপকরণ, জুতা শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, পাউরুটি, বিস্কুট ও কেক, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতি।

স্বর্ণের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই কারণে তুলা বীজ, পাম নাটস, রেফ্রিজেরেটর শিল্পের স্টিল প্লেটের দামও কমছে। বজ্রপাত থেকে প্রতিরক্ষাকারী পণ্য লাইটিং অ্যারেস্টারের আমদানি শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাবে এ পণ্যের দাম কমতে পারে।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের হাতে চলতি পুঁজির ঘাটতি লাঘবকল্পে এবং উৎসে করহার যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ কতিপয় পণ্যে আমি উৎসে আয়কর কর্তনের হার কমানোর প্রস্তাব করছি।

বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন-চাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের সর্বোচ্চ হার ৫ শতাংশ, যা ভিত্তিমূল্য নির্বিশেষে ২ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এম এস স্কাপ সরবরাহের ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের সর্বোচ্চ হার ৫ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এম এস স্কাপ সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং লৌহ উৎপাদন শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে আমি স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এম এস স্কাপের সরবরাহের উপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার ভিত্তিমূল্য নির্বিশেষে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

বর্তমানে রসুন ও চিনি আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করা হয়। আমি এই হার ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ২ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। এছাড়া বর্তমানে হাঁস-মুরগির খাদ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়। পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে আমি এই অগ্রিম আয়কর আরোপ ৫ শতাংশের পরিবর্তে ২ শতাংশ প্রস্তাব করছি।

মোবাইল সেট উৎপাদনে মূসক আরও এক বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব
স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল টেলিফোন সেট উৎপাদনের উপর মূসক অব্যাহতি এবং সংযোজন খাতে ৫ শতাংশ হারে বিদ্যমান মূসক সুবিধা আরও এক বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জনস্বার্থ ও দেশিয় শিল্পের বিকাশের জন্য মূসক হার পরিবর্তন ও অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল টেলিফোন সেট উৎপাদনের উপর মূসক অব্যাহতি এবং সংযোজন খাতে ৫ শতাংশ হারে মূসক বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হবে। দ্রুত বর্ধনশীল এ খাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উক্ত সুবিধা আরও এক বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অইসিটি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ সেলুলার ফোন উৎপাদন ও সংযোজন। এ শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সেলুলার ফোন উৎপাদন ও সংযোজনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেলুলার ফোন উৎপাদন উৎসাহিত করা ও সংযোজন শিল্প প্রসারে উক্ত শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা আরও বিনিয়োগ বান্ধব ও যৌক্তিকীকরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, এ শিল্পের প্রতিরক্ষণ এবং আমদানি পর্যায়ে সঠিক মূল্য নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে যথাযথ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে সেলুলার ফোনের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে সরকার
০২০-২১ অর্থবছরের বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এর আগের বছরের বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ প্রস্তাব করা হয়েছিলো ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। সেই হিসেবে সরকার নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে দ্বিগুণ। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ সালের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল ২৯ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ নিবে ৫৩ হাজার ৬৫৪ কোটি আর স্বল্পমেয়াদী ঋণ নিবে ৩১ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করছি। এর মধ্যে রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক ঋণসহ বাজেটের আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। আর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮হাজার কোটি টাকার।

অর্থাৎ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি। জিডিপি হিসেবে ৬ শতাংশ ঘাটতি। যা বাংলাদেশের ৪৯তম বাজেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি। ঘাটতির টাকা ঋণ নেয়া হবে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে।

বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা
বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য মোট ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য মোট ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় গৃহিত কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতের জন্য এ বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম ১৩ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে মোট ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মোট বাজেট বরাদ্দের ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

রফতানি পণ্যের উৎসে কর কমল
পোশাকসহ সকল ধরনের পণ্যের রফতানির ক্ষেত্রে উৎসে কর কমানো হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজাটে রফতানি মূল্যের ওপর দশমিক ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কমানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকসহ সকল ধরনের পণ্য ও সেবা রফতানি খত কোভিড-১৯ এর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই রফতানি খাতকে সার্বিক সহায়তার অংশ হিসাবে আয়কর অধ্যাদেশে উল্লেখিত উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব করছি।

আয়কর অধ্যাদেশে তৈরি পোশাকসহ সকল ধরনের পণ্যের রফতানি মূল্যের ওপর ১ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে। এসআরও জারির মাধ্যমে এ হার হ্রাস করা হয়েছে, যা ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

আমি আয়কর অধ্যাদেশে তৈরি পেশাসহ সকল ধরনের পণ্যের রফতানি মূল্যের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধরণের প্রস্তাব করছি। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে জরুরি এবং অপ্রত্যাশিত খরচ দেখা দিয়েছে তা মেটাতে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় আগামী বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

অপরিবর্তিত থাকছে রাসায়নিক সারের দাম
আমদানি খরচ যাই হোক না কেন, আগামী অর্থবছরেও রাসায়নিক সারের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হবে ও কৃষি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে কৃষি খামার যান্ত্রিকীকরণে ৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যমান বছরের ভর্তুকি অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি টাকা। কৃষি ভর্তুকি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এ ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।

তিনি বলেন, করোনায় বিশ্বে দুর্ভিক্ষের যে পূর্বাভাস রয়েছে তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাসহ কৃষিখাতের সাথে জড়িত কৃষক, কৃষি শ্রমিক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করাই বর্তমানে কৃষিখাত সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে জানান তিনি।

বাজেট অধিবেশনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই যাতে খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয়। সে জন্য এক ইঞ্চি আবাদি জমিও ফেলে রাখা যাবে না। কৃষি মন্ত্রণালয় ও তার সকল সহযোগী সংস্থা এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

স্বর্ণ আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহার
বৈধপথে স্বর্ণ আমদানিতে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে স্বর্ণবার আমদানির ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকছে না। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে স্বর্ণ নীতিমালা প্রণীত হলেও স্বর্ণ আমদানিতে করভার বেশি থাকার ফলে এ যাবৎ দেশে বৈধভাবে কোনো স্বর্ণ আমদানি হয়নি। অবৈধপথে স্বর্ণ আমদানি নিরুৎসাহিত করা এবং অথরাইজড ডিলারদের মাধ্যমে বৈধপথে স্বর্ণ আমদানিতে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে স্বর্ণবার আমদানির ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, আশা করছি এর ফলে বৈধপথে স্বর্ণ আমদানি এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বর্ণালঙ্কার তৈরি ও বিপণনখাতে মূল্য সংযোজন কর আহরণ বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে
২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ৬৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ। গত বছর শিক্ষা খাতের বাজেট ছিল ৬১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।

এবারের বাজেটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মাথায় রেখে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে এবং সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষা খাতে সম্পদ সঞ্চালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতে আগামী অর্থবছরেও এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মিলে শিক্ষা খাতকে বিবেচনা করা হয়। এবারের বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। যা গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ২৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। যা গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের বরাদ্দ ৮ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। যা গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৭ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় হতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এতে করে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটিকালীন সময়ে টেলিভিশন ও অনলাইনে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়। শিক্ষা খাতে আমাদের আগামী অর্থবছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে এ দীর্ঘ ছুটির ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে পাঠ্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। এ কাজের জন্য আগামী বছরের বাজেটে আমরা প্রয়োজনীয় সম্পদের যোগান রাখছি।

করোনায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ
বাংলাদেশেও করোনায় ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্থনীতি। এ রকম পরিপ্রেক্ষিতে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেট প্রস্তাবে করোনা মোকাবিলায় যেকোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষায়িত আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে ১৪টিসহ প্রতিটি জেলা শহরে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল স্থাপন ও চালু করা হয়েছে। করোনা রোগ নির্ণয়ের জন্য এ পর্যন্ত ৫৫টি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠাকে আধুনিকীকরণ ও উন্নততর সেবা প্রদান প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে।

এর জন্য আমরা জরুরিভিত্তিতে স্বাস্থ্যখাতে ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছি। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুজনিত কারণে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানীবাবদ ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দুই হাজার ডাক্তার এবং ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জরুরিভিত্তিতে ৩৮৬ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, দুই হাজার ৬৫৪ জন ল্যাব অ্যাটেন্ডেন্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব খাতে ১২০০ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ১৬৫০ মেডিকেল টেকনিশিয়ান এবং ১৫০ কার্ডিওগ্রাফার সর্বমোট তিন হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ যাচাইয়ের জন্য একটি স্ক্রিনিং অ্যাপ এবং এ ভাইরাস কমিউনিটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন জাতীয় কোভিড-১৯ ডিজিটাল সারভেইল্যান্স সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই সাথে করোনা মোকাবিলায় দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণে এক হাজার ১২৭ কোটি খরচে একটি এবং অন্যটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে এক হাজার ৩৬৬ কোটি খরচে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও করোনা মোকাবিলায় আরও বেশকিছু পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।

দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের
আগামী অর্থবছরের বাজেটে দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের- হাতে তৈরি খাবার, গুঁড়া দুধ, রং, অনলাইন খাবার, অনলাইন কেনাকাটা, সোডিয়াম সালফেড, আয়রন স্টিল, স্ক্রু, বার্নিস বাইসাইকেল, কম্প্রেসার শিল্পে ব্যবহৃত উপকরণ, বিদেশি মোটরসাইকেল বডি স্প্রে, স্মার্টফোন, ফলের জুস, বোতলজাত পানি, আমদানি করা এলকোহল, কোমল পানীয় পলিথিন ব্যাগের দাম প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়তে পারে।

আরও যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে তা নিচে তুলে ধরে হলো- এয়ারকন্ডিশনার, প্রসাধনী সামগ্রী, মোবাইল ফোন সেবা খরচ, ইন্টারনেট সেবা, বিড়ি ও সিগারেট, আলোকসজ্জা সামগ্রী, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন খরচ, গাড়ি, শ্যাম্পু, চকলেট, বিদেশি টিভি।

তবে বাজেটে বলা হয়েছে, বাজেটকে ঘিরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে এমন কোনো উপকরণ বাজেটে রাখা হয়নি।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ
মানুষকে নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টির করার জন্য নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে অপ্রদর্শিত টাকা বা কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট তুলে ধরার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, কেবল রাজস্ব আহরণই নয়; বরং করোনাভাইরাসজনিত চলমান সংকটের কারণে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এবং মানুষকে নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দারও পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে আমাদের অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে রাজস্বনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’

তিনি বলেন, অর্থনীতিতে কার্যকর চাহিদা সৃষ্টি এবং তা বজায় রাখার নিমিত্তে পর্যাপ্ত সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য একদিকে আমাদেরকে অধিক পরিমাণে রাজস্ব জোগান দিতে হবে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখতে হবে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে করদাতার রিটার্ন দাখিলে অজ্ঞতার কারণে তাদের কিছু অর্জিত সম্পদ প্রদর্শনে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। এ অবস্থায় করদাতাদের আয়কর রিটার্নের এই ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ প্রদান এবং অর্থনীতির মূল স্রোতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি আয়কর অধ্যাদেশে আয়কর প্রণোদনা সংক্রান্ত দুটি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করছি।

প্রথমত, দেশের প্রচলিত আইনে যা-ই থাকুক না কেন, আগামী ১ লা জুলাই, ২০২০ থেকে ৩০ জুন, ২০২১ এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাগণ আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম চালিকাশক্তি পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার লক্ষ্যে তিনবছর লক-ইনসহ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে আগামী ১ জুলাই, ২০২০ থেকে ৩০ জুন, ২০০১ এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে এবং উক্ত বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না।

আগামী অর্থ বছরে র‍্যামিটেন্স কময়ে পারে
করোনা ভাইরাস ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের কারণে আগামী অর্থ বছরে প্রবাসী আয় কমতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত অর্থ বছরে বাজেটে প্রবাস আয় পাঠাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই পদক্ষেপের কারণে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১ মাস বাকি থাকতেই ১৬.৫৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাস আয় হয়েছে। এই অর্থ দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে বিশেষ অবদান রাখছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধান প্রধান শ্রমবাজারে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের ফলে আগামী অর্থ বছরে প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হতে পারে। আগামী অর্থ বছরেও এই খাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা খাতে বরাদ্দ কমেছে
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ কমেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা খাতে। এবারের বাজেটে এই খাতে ৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব এসেছে। যা গত বারের তুলনায় কমেছে। গতবারে এ খাতে বাজেট ছিল ৯ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

ইসির বাজেট কমেছে
২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য ১ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা গেছে, গতবছর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ছিল। এবার তা কমিয়ে ১ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ অর্থবছরে বাজেট কমেছে ২০৪ কোটি টাকা।

সামনে সারা দেশে পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কারণে ব্যয় ১০ গুণ বেড়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে পরিচালন খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। আর বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুমোদিত তিনটি প্রকল্প রয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য ১৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দে অন্তত ১১টি খাতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল।

এরমধ্যে রয়েছে ছবিসহ ভোটার তালিকা, সংসদের উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকারের সাধারণ ও উপনির্বাচন, স্মার্টকার্ড প্রদান, ২ বছর মেয়াদি পেপার লেমিনেটেড পরিচয়পত্র, ইভিএম প্রকল্পের আওতায় ৮২০০০ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয়, দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ, প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবাসেই নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান, শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সী নাগরিকদের নিবন্ধন ও এনআইডি প্রদান, এনআইডি তথ্য যাচাই এবং ইসির উন্নয়ন ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।

এসএমই পণ্য আমদানিতে শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব
এসএমই শিল্প কর্তৃক তৈরিকৃত পণ্য আমদানিতে উক্ত শিল্পের প্রতিরক্ষণের জন্য শুল্ককর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০–২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর হালকা প্রকৌশলকে ২০২০ সালের ‘বর্ষ পণ্য’ ঘোষণা করেছেন। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের সুপারিশের আলোকে এসএমই শিল্পের পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কতিপয় উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি এসএমই শিল্প কর্তৃক তৈরিকৃত পণ্য (যেমন- পেরেক, স্ক্রু, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ইত্যাদি) আমদানিতে উক্ত শিল্পের প্রতিরক্ষণের জন্য শুল্ককর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া দেশিয় মধু চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে এবং তাদের প্রতিরক্ষণের জন্য মধু আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কহার খানিকটা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেল খাতে বাজেট বাড়ল
নতুন অর্থবছর ২০২০-২০২১ এর প্রস্তাবিত বাজেটে ১৬ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে। যা গত বারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই খাতে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ১৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা।

করোনা বিপর্যস্ত দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩কোটি টাকা। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫কোটি টাকা।

বরাদ্দ কমল বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে
কমেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দ। বিদায়ী অর্থ বছরে ২৮ হাজার ৫১টি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এবার প্রস্তাব করা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা কম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই খাতের বরাদ্দের ক্ষেত্রে ২০১৯-২০ অর্থ বছর থেকেই সুচক নিম্নগামী।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিলো ২৪ হাজার ৯’শ ২১ কোটি টাকা। পরের বছর বাজেটের (২০১৯-২০) আকার বেড়েছে ১৮ শতাংশ।আনুপাতিক হারে বাড়াতে হলে সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে মুজিব শতবর্ষে মানসম্মত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫১০ কিলোওয়ার্ট আওয়ারে উন্নীত হয়েছে।

১৬ হাজার ৫১০ মেগাওয়াট ৪৮টি কেন্দ্র নির্মাণাধীন, ২ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১২টি কেন্দ্র চুক্তি প্রক্রিয়াধীন, ৬৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৬টি কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে আরও ১৯ হাজার ১’শ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে খরচ বাড়বে
২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড বা মেমোরি কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো এবং ডেটা ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাবে।

গত অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।

তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়বে
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের মূল্যস্তর ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে সব ধরনের সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের নিম্ন স্তরের দশ শলাকার দাম ৩৯ টাকা ও তার বেশি এবং সম্পূরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। মধ্যম স্তরের দশ শলাকার দাম ৬৩ টাকা ও তার বেশি, উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ৯৭ টাকা ও তার বেশি এবং অতি উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ১২৮ টাকা ও তার বেশি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ তিন স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে যন্ত্রের সাহায্য ব্যতীত হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির পঁচিশ শলাকার দাম ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা কারার প্রস্তাব করা হয়েছে। বারো শলাকার দাম ছয় টাকা ৭২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা এবং আট শলাকার দাম চার টাকা ৪৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ছয় টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফিল্টার সংযুক্ত বিড়ির বিশ শলাকার দাম ১৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯ টাকা এবং দশ শলাকার দাম আট টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক ৪০ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি দশ গ্রাম জর্দার দাম ৪০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর দশ গ্রাম গুলের দাম ২০ টাকা এবং ৫৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যাংকে টাকা রাখার খরচ বাড়ছে
ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকার ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে। ফলে যারা ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকার ওপরে রাখেন তাদের ব্যাংকে টাকার রাখার খরচ বাড়বে।

বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে ও বিমান টিকিটের ওপর আবগারি শুল্ক আদায় করা হয়ে থাকে। এই আইনের প্রয়োগ সহজবোধ্য ও যুযোপযোগী করার লক্ষ্যে কতিপয় ধারা সংযোজন ও সংশোধনের প্রস্তাব করছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে তবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক বর্তমানে যা আছে তাই রাখা হয়েছে। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত স্থিতি থাকা ব্যাংক হিসাবের আবগারি শুল্ক দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এক কোটি টাকার বেশি থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর পাঁচ কোটি টাকার বেশি স্থিতির ক্ষেত্রে আবগরি শুল্ক ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমবে জুতার দাম
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী জুতার দাম কমবে। এ বাজেটে জুতা ও জুতা তৈরির কাঁচামালেরর উপর আরোপিত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জুতা তৈরি শিল্পে ব্যবহৃত সব ধরনের উপকরণে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে জুতার দাম কমবে।

আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ১৭৩৯ কোটি টাকা
সরকারের বিচার বিভাগ পরিচালনা ও উন্নয়ন খাতে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে এক হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে মোট এক হাজার ৬৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে বরাদ্দ বাড়ছে
আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৫০৫ কোটি টাকা বেশি। এর আগে গত অর্থবছরের বাজেটে বিভাগটিতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছিল তিন হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে আকার দাঁড়ায় দুই হাজার ৬৩৫ কোটি টাকায়।

কমতে পারে চাল, চিনি, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম
বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুনের স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা চিনি ও রসুনের অগ্রিম আয়কর কমানো হয়েছে। ফলে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে।

প্রস্তাবিত বাজেট তুলে ধরতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের হাতে চলতি পুঁজির ঘাটতি লাঘবকল্পে এবং উৎসে করহার যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ কতিপয় পণ্যে আমি উৎসে আয়কর কর্তনের হার কমানোর প্রস্তাব করছি।’

‘বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন-চাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের সর্বোচ্চ হার ৫ শতাংশ, যা ভিত্তিমূল্য নির্বিশেষে ২ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।’

‘বর্তমানে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এম এস স্কাপ সরবরাহের ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের সর্বোচ্চ হার ৫ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এম এস স্কাপ সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং লৌহ উৎপাদন শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে আমি স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এম এস স্কাপের সরবরাহের উপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার ভিত্তিমূল্য নির্বিশেষে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। বর্তমানে রসুন ও চিনি আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করা হয়। আমি এই হার ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ২ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে এ ঘাটতি মেটানো হবে। এ হার গত বাজেটে ছিল জিডিপির ৫ শতাংশ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয় ১৯৯৭২ সালের ৩০ জুন। আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের ঘোষণা করা সেই বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। ৪৯ বছর পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশের ৪৯ তম বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে গত ৪৯ বছরে দেশের বাজেটের আকার বাড়ছে ৭২২ গুণ!

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের আরো সংবাদ