1. [email protected] : Habib : Habib
  2. [email protected] : Asim : Asim
  3. [email protected] : anis : anis
  4. [email protected] : Admin : Admin
  5. [email protected] : Nayan Babu : Nayan Babu
  6. [email protected] : Polash : Polash
  7. [email protected] : Rajowan : Rajowan
  8. [email protected] : Riyad : Riyad
  9. [email protected] : woishi : woishi
হত্যা করে বাউল ছদ্মবেশে ঘুরতো, হয়েছে গানের মডেল
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:২৮ অপরাহ্ন

হত্যা করে বাউল ছদ্মবেশে ঘুরতো, হয়েছে গানের মডেল

  • পোস্ট হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে এলাকায় মুদির দোকান করতো হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির ওরফে বাউল সেলিম ওরফে খুনি হেলাল (৪৫)। পরে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বগুড়া শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান জানান দিতে তিন জনকে হত্যা করে সে। ওই হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলা থেকে নিজেকে আড়াল করতে বাউল ছদ্মবেশে ঘুরছে সে। এই সময়ে ‘ভাঙা তরী ছেড়া পাল’ শিরোনামে গানের মডেল হিসেবে তাকে দেখা যায়। হত্যাকাণ্ডের সাজা থেকে বাঁচতেই তার এসব কৌশল। বুধবার কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ সব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে ৩টি হত্যা মামলা রয়েছে, সবগুলোই বগুড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সে বগুড়ার একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৭ সালে বগুড়ার বিষ্ণু হত্যা মামলা, ২০০১ সালে বগুড়ার চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি সে। এছাড়া ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলার আসামি ছাড়াও ২০১০ সালে বগুড়া সদর থানায় দায়ের করা একটি চুরির মামলায় ২০১৫ সালে সে গ্রেপ্তার হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়‌‌। ২০০০ সালে বগুড়া শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে বামহাতে আঘাত পায় সে এবং একপর্যায়ে বামহাত পঙ্গু হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় এসে হাত লুলা হেলাল নামেও পরিচিত ছিল সে।

গ্রেপ্তার হেলালকে সিরিয়াল কিলার হিসেবে ব্যাখ্যা দেয়ার কারণ সম্পর্কে র‌্যাব জানায়, তার বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তিনটি হত্যা মামলায় সে জড়িত। ২০০৯ সালের পর ঘটা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য আমরা সহজেই পেয়ে যাই। কিন্তু এর আগের তথ্য থানা থেকে সংগ্রহ করতে হয়। আমরা যখন তাকে থানা পুলিশে হস্তান্তর করবো, তখন থানা পুলিশও এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে। পরে তারাও আরও কোনও মামলার সংশ্লিষ্টতা পেতে পারে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ছদ্দবেশী সেলিম ফকির জানায়, ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে এলাকায় মুদির দোকান করতো সে। পরে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। চুরির মামলায় ২০১৫ সালে যখন জামিন পায়, তখন সে কৌশলে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম চলে যায়। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর সিলেটে ছদ্মবেশ ধারণ করে কিছুদিন অবস্থান করে। বিভিন্ন সময় সে তার নাম পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন রেলস্টেশন ও মাজারে ছদ্মবেশে অবস্থান করতো।

সে প্রায় ৭ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফেরারিভাবে জীবন যাপন করছে এবং গত চার বছর ধরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেল স্টেশনের পাশে একজন নারীর সঙ্গে সংসার করে আসছে। রেলস্টেশনে বাউল গান গেয়ে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।

যেভাবে মিউজিক ভিডিওর মডেল হয়েছে সেলিম

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, প্রায় ৫ বছর আগে কিশোর পলাশ ওরফে গামছা পলাশ একটি গানের শুটিং করছিলেন নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনে। শুটিং চলার সময় রেললাইনের পাশ দিয়ে একজন বাউল যাচ্ছিল। তখন শুটিংয়ের পরিচালক তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। হেলাল মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করে। ‘ভাঙা তরী ছেড়া পাল’ শিরোনামে গানের মডেল হিসেবে পরে তাকে দেখা যায়। ইউটিউবে গানটির ভিডিওচিত্র ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিপুল সংখ্যক দর্শক এই গানটি ইউটিউবে দেখেন। ৪৬ মিলিয়ন ভিউ হয় গানটির।

তিনি আরও বলেন, এই গানটি যখন প্রচার হয় এবং বগুড়ার বিভিন্ন লোকজন দেখে। পরে এলাকাবাসী আমাদের জানান, সে বগুড়ায় বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয় মাসের চেষ্টায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন বলে জানান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এতোগুলো মামলার আসামী হয়ে মিউজিক ভিডিও করেও আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশ ও চেষ্টা করেছে তাকে গ্রেপ্তারের। কারণ দন্ডিত আসামিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করতে চায়। তবে ছদ্মবেশে থাকায় শনাক্ত করতে সমস্যা হয়।

বিজনেস আওয়ার/১৩ জানুয়ারি, ২০২২/এএইচ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
lanka-bangla-ibroker-businesshour24

লজ্জার হার চ্যাম্পিয়নদের

  • ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • আইভীর হ্যাটট্রিক

  • ১৬ জানুয়ারী ২০২২