ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠের ফজিলত

  • পোস্ট হয়েছে : ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩
  • 32

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক: প্রিয় রাসূল (সা.)-এর নাম শুনলে দরুদ পড়া তার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন। নবীজি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ নবীর উপর রহমত অবতীর্ণ করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ পড়ো এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৬)

দরুদ পাঠের ফজিলত
রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ প্রেরণ করবে আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। (সহিহ মুসলিম)।

অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি পাপ ক্ষমা করা হয় এবং তার জন্য মর্যাদার দশটি স্তর বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। (নাসায়ী)

রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠকারী ব্যক্তি কেয়ামতের দিন রাসূলের কাছে থাকবে। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামত দিবসে লোকদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আমার অধিক নিকটতম হবে, যে ব্যক্তি তাদের মধ্যে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজি)।

যেসব সময়ে দরুদ পড়তে হয়
সাধারণত যেকোনও সময় পবিত্র অবস্থায় দরুদ শরীফ পাঠ করে এর ফজিলত ও সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। তবে বিশেষ যেসব সময়ে দরুদ পড়তে হয়, তাহলো-

দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে এবং চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের শেষ রাকাতে দরুদ শরীফ পড়া আবশ্যক।

কেউ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উচ্চারণ করলে তার নিজের এবং কেউ তা পাশ থেকে শুনলে তার জন্য দরুদ শরীফ পড়া আবশ্যক।

কোনও বৈঠক বা মসলিস থেকে উঠার আগে দরুদ শরীফ পড়ে তারপর উঠা উচিত।

যেকোনও বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করার আগে ও পরে দরুদ শরীফ পড়তে হয়।(আল- কাউলুল বাদী, পৃষ্ঠা, )

মসজিদে প্রবেশের আগে ও বের হওয়ার সময় দরুদ শরীফ পড়তে হয়। (আল- কাউলুল বাদী, পৃষ্ঠা, )

আজানের পর দোয়া পড়ার আগে প্রথমে দরুদ শরীফ পড়ে এরপর আজানের জন্য নির্ধারিত দোয়াটি পড়া উচিত।

মদিনার মসজিদে নববীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের সময় দরুদ শরীফ পড়তে হবে। নবীজির রওজার সামনে পড়া দরুদ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই শুনেন।

কোনও বই, রিসালাহ বা চিঠি-পত্র লেখার শুরুতে দরুদ শরীফ লেখা উচিত।

বিপদ-আপদ, বালা-মুসীবত, ভূমিকম্প ইত্যাদির সময় এর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে দরুদ শরীফ পড়া উচিত।

পায়ে ঝিঝি লাগলে বা কানে শোঁ শোঁ আওয়াজ হলে দরুদ শরীফ পড়া উচিত। (দুররে মুখতার, ১/৫১৬, কিতাবুস সুন্নাহ, ১৫৭, আল- কাউলুল বাদী, পৃষ্ঠা, ৩৪৮, ৩১৮-৩২৩,২৬৬)

বিজনেস আওয়ার/২৮ মে, ২০২৩/এএইচএ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান:
ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মেইলে তথ্য জমা করুন

রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠের ফজিলত

পোস্ট হয়েছে : ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক: প্রিয় রাসূল (সা.)-এর নাম শুনলে দরুদ পড়া তার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন। নবীজি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ নবীর উপর রহমত অবতীর্ণ করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ পড়ো এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৬)

দরুদ পাঠের ফজিলত
রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ প্রেরণ করবে আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। (সহিহ মুসলিম)।

অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি পাপ ক্ষমা করা হয় এবং তার জন্য মর্যাদার দশটি স্তর বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। (নাসায়ী)

রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠকারী ব্যক্তি কেয়ামতের দিন রাসূলের কাছে থাকবে। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামত দিবসে লোকদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আমার অধিক নিকটতম হবে, যে ব্যক্তি তাদের মধ্যে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজি)।

যেসব সময়ে দরুদ পড়তে হয়
সাধারণত যেকোনও সময় পবিত্র অবস্থায় দরুদ শরীফ পাঠ করে এর ফজিলত ও সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। তবে বিশেষ যেসব সময়ে দরুদ পড়তে হয়, তাহলো-

দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে এবং চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের শেষ রাকাতে দরুদ শরীফ পড়া আবশ্যক।

কেউ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উচ্চারণ করলে তার নিজের এবং কেউ তা পাশ থেকে শুনলে তার জন্য দরুদ শরীফ পড়া আবশ্যক।

কোনও বৈঠক বা মসলিস থেকে উঠার আগে দরুদ শরীফ পড়ে তারপর উঠা উচিত।

যেকোনও বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করার আগে ও পরে দরুদ শরীফ পড়তে হয়।(আল- কাউলুল বাদী, পৃষ্ঠা, )

মসজিদে প্রবেশের আগে ও বের হওয়ার সময় দরুদ শরীফ পড়তে হয়। (আল- কাউলুল বাদী, পৃষ্ঠা, )

আজানের পর দোয়া পড়ার আগে প্রথমে দরুদ শরীফ পড়ে এরপর আজানের জন্য নির্ধারিত দোয়াটি পড়া উচিত।

মদিনার মসজিদে নববীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের সময় দরুদ শরীফ পড়তে হবে। নবীজির রওজার সামনে পড়া দরুদ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই শুনেন।

কোনও বই, রিসালাহ বা চিঠি-পত্র লেখার শুরুতে দরুদ শরীফ লেখা উচিত।

বিপদ-আপদ, বালা-মুসীবত, ভূমিকম্প ইত্যাদির সময় এর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে দরুদ শরীফ পড়া উচিত।

পায়ে ঝিঝি লাগলে বা কানে শোঁ শোঁ আওয়াজ হলে দরুদ শরীফ পড়া উচিত। (দুররে মুখতার, ১/৫১৬, কিতাবুস সুন্নাহ, ১৫৭, আল- কাউলুল বাদী, পৃষ্ঠা, ৩৪৮, ৩১৮-৩২৩,২৬৬)

বিজনেস আওয়ার/২৮ মে, ২০২৩/এএইচএ

ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার মতামত জানান: